সর্বশেষ

বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬

ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই

ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই

 


না ফেরার দেশে চলে গেলেন ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া।আজ (২ জানুয়ারি) শুক্রবার সকাল ৭ টায় চট্টগ্রামের রাউজানস্থ জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।তিনি ২০০৬ সাল থেকে বাধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।২০০৬ সালে ব্রেইন স্ট্রোকের পর সুকুমার বড়ুয়ার ডান পা অবশ হয়ে যায়। এর পর থেকেই হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। 

১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্ম নেন ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া।ষাটের দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। ১৯৬৩ সালে তোপখানা রোডে ছয় টাকায় বেড়ার ঘর ভাড়া করে স্বাধীনভাবে লেখালেখি শুরু করেন।কচিকাঁচার আসর, খেলাঘর আর মুকুলের মাহফিলে তার লেখা ছাপা হতে থাকে। ১৯৯৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার হিসেবে অবসরে যান।প্রায় ৬০ বছর ধরে ছড়া লিখে সুকুমার বড়ুয়া ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’, ‘ছড়াসম্রাট’ ইত্যাদি নানা অভিধায় অভিষিক্ত হয়েছেন। ব্যঙ্গাত্মক, হাস্যরসাত্মক, নৈতিক শিক্ষামূলক রচনার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর রাজনৈতিক বার্তাও তার লেখায় এসেছে।

‘পাগলা ঘোড়া’, ‘ভিজে বেড়াল’, ‘চন্দনা রঞ্জনার ছড়া’, ‘এলোপাতাড়ি’, ‘নানা রঙের দিন’, সুকমার বড়ুয়ার ১০১টি ছড়া, ‘চিচিং ফাঁক’, ‘কিছু না কিছু’, ‘প্রিয় ছড়া শতক’, ‘নদীর খেলা’, ছোটদের হাট, মজার পড়া ১০০ ছড়া, সুকুমার বড়ুয়ার ছড়াসম্ভার (২ খণ্ড), ‘যুক্তবর্ণ‘, ‘চন্দনার পাঠশালা’, ‘জীবনের ভেতরে বাইরে’ সুকুমার বড়ুয়ার উল্লেখযোগ্য ছড়ার বই।

ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য সরকার ২০১৭ সালে সুকুমার বড়ুয়াকে একুশে পদকে ভূষিত করে।

এছাড়া বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সম্মাননা, অবসর সাহিত্য পুরস্কার, আনন ফাউন্ডেশন আজীবন সম্মাননা, চন্দ্রাবতী শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা তিনি পেয়েছেন।

প্রয়াত সংঘরাজ জ্ঞানশ্রী মহাথেরের স্মরণে আজ এবং কাল "জাতীয় অনিত্য সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান

প্রয়াত সংঘরাজ জ্ঞানশ্রী মহাথেরের স্মরণে আজ এবং কাল "জাতীয় অনিত্য সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান


বাংলাদেশী বৌদ্ধদের শতব্দীর প্রাচীন সংগঠন বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির আয়োজনে একুশে পদকপ্রাপ্ত, বাংলাদেশী বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয়গুরু, সদ্য প্রয়াত ত্রয়োদশ সংঘরাজ, চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ড. জ্ঞানশ্রী মহাথের’র দুই দিনব্যাপী জাতীয় অনিত্য সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান আজ ১ ও আগামীকাল ২ জানুয়ারি ২০২৬,  বৃহস্পতি ও শুক্রবার চট্টগ্রাম মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম কলেজ মাঠে (প্যারেড ময়দান) ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। আজ ১ জানুয়ারি দুপুর ২ টার দিকে  চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে হেলিকপ্টার যোগে ড. জ্ঞানশ্রী মহাথের’র পবিত্র মরদেহ আনা হয় বিনাজুড়ি গ্রাম থেকে।  র‌্যালিটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্যারেড মাঠে নবনির্মিত অস্থায়ী আসনে মহাথের’র পবিত্র মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়। রাতে পরিবেশিত হবে বুদ্ধ কীর্তন ও স্বেচ্ছাসেবকসহ উপ-পরিষদের দায়িত্ব বন্টন করা হবে। ২ জানুয়ারির অনুষ্ঠান সূচির মধ্যে রয়েছে সকালে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, অষ্টপরিস্কারসহ সংঘদান, বিকালে অনিত্য সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বৌদ্ধ ধর্মীয়গুরু উপসংঘরাজ শিক্ষাবিদ শাসনপ্রিয় মহাথের। আশির্বাদ প্রদান করবেন চতুর্দশ সংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তি সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ.ফ. ম. খালিদ হোসেন। সভার উদ্বোধন করবেন- সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। সংবর্ধিত অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন। স্বাগত ভাষন দেবেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির চেয়ারম্যান অজিত রঞ্জন বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি থাকবেন- চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ বিপিএম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল মিঞা, ভারতীয় দূতাবাসের সহকারী হাই কমিশনার ড. রাজীব রঞ্জন, প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া. চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী প্রমূখ।        দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে জাতি, ধর্ম, নির্বিশেষে সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন- পূজনীয় ত্রয়োদশ সংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী মহাথের’র জাতীয় অনিত্য সভা ও স্মৃতিচারণ উদযাপন পরিষদের সভাপতি লায়ন আদর্শ কুমার বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী অসীম বড়ুয়া, প্রধান সমন্বয়কারী সপু বড়ুয়া।

শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

রাঙ্গুনিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে ধুতাঙ্গ ভান্তের ৪৯তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন

রাঙ্গুনিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে ধুতাঙ্গ ভান্তের ৪৯তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন

 


নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গুনিয়া রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের বনাশ্রম ভাবনা কুঠিরে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে শীলানন্দ মহাস্থবিরের (ধুতাঙ্গ ভান্তে) ৪৯তম শুভ জন্মজয়ন্তী। ভূমিদান ও একক সদ্ধর্মদেশনা উপলক্ষে আয়োজিত এই দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান গতকাল শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সমাপ্ত হয়েছে।

গতকাল সমাপনী দিনে শুক্রবার ভোর থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে ছিল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। দিনের কর্মসূচীর মধ্যে ছিল ধুতাঙ্গ ভান্তে কর্তৃক ৪৯তম জন্মদিনের কেক কাটা, দায়ক-দায়িকা ও উপাসক-উপাসিকাদের আশীর্বাদ প্রদান এবং ভিক্ষু সংঘের পিন্ডচারণ। এছাড়া মঙ্গলাচরণ, উদ্বোধনী ও বরণ সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে দানকৃত ভূমি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

ত্যাগের মহিমায় নির্বাণ লাভের আহ্বান

সদ্ধর্মদেশনা প্রদানকালে শীলানন্দ স্থবির (ধুতাঙ্গ ভান্তে) উপস্থিত ভক্তদের উদ্দেশ্যে ধর্মীয় নীতি ও উপদেশ প্রদান করেন। মৈত্রী বার্তার মাধ্যমে তিনি নির্বাণ লাভের পথ ও অন্তরায় সৃষ্টিকারী বিভিন্ন প্রলোভন (মার) জয় করার বিষয়ে আলোকপাত করেন।

তিনি বলেন:

"নির্বাণ লাভের জন্য বুদ্ধের ত্যাগময় শিক্ষা ধারণ করতে হবে। বুদ্ধের অহিংসা, মুক্তি ও ত্যাগের বাণী এবং নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা জীবনে বাস্তবায়ন করাই প্রকৃত ধর্ম।"সেই সাথে বিভিন্ন উদাহরণ দিয়েছে ধর্মদেশনা প্রদান করে।

দেশজুড়ে ভক্তদের মিলনমেলা

দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে রাঙ্গুনিয়া ছাড়াও, চট্টগ্রাম দক্ষিন,উত্তর জেলা, কক্সবাজার, তিন পার্বত্য জেলা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত সমবেত হন। ভক্তদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। আগত পুণ্যার্থীরা জানান, ভান্তের উপদেশগুলো তারা ব্যক্তিজীবনে ধারণ ও চর্চা করার চেষ্টা করবেন।

বিশ্বজিৎ বড়ুয়া ও লুসি রানী বড়ুয়ার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চৌধুরী দীপংকর বড়ুয়া, বিপ্লব বড়ুয়া, পান্না লাল বড়ুয়া, বিমান বড়ুয়া, অঞ্জন বড়ুয়া, পলাশ বড়ুয়া এবং কমল বরন বড়ুয়া প্রমুখ। 

বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

চন্দনাইশে বিনয়শীল সোমানন্দ মহাস্থবিরের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান আগামীকাল

চন্দনাইশে বিনয়শীল সোমানন্দ মহাস্থবিরের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান আগামীকাল

 


চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ফতেনগর মহাবোধি চত্বরে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে ফতেনগর সার্বজনীন পূর্ব সুনীতি বিহারের অধ্যক্ষ, বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু বিনয়শীল সোমানন্দ মহাস্থবিরের জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান। দুই দিনব্যাপী এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান আগামীকাল ২৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার) সমাপ্ত হবে।

আজ দুপুর ১২:৩০ মিনিটে মহাস্থবিরের অনিত্যদেহ ফতেনগর থেকে রথ শোভাযাত্রা ও বুদ্ধকীর্তন সহকারে তাঁর জন্মভূমি সুচিয়া সুখানন্দ বিহারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অন্তিম বন্দনা ও বৈকালিক ভেষজ অষ্টপরিষ্কারসহ সংঘদান অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টায় স্মৃতিচারণ সভা ও ব্যাজ প্রদান এবং রাত ৯টায় বিমল বড়ুয়া ও শিক্ষক সুমন বড়ুয়ার পরিবেশনায় বুদ্ধকীর্তন শুরু হয়।

আগামীকাল শুক্রবার অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সকাল ৭টায় অনিত্যদেহ শোভাযাত্রা সহকারে গ্রাম প্রদক্ষিণ ও সভামণ্ডপে নেওয়া হবে। সকাল ৯টায় শুরু হবে প্রথম পর্যায়ের সদ্ধর্মসভা। দুপুরে ২টা থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় পর্যায়ের স্মৃতিচারণ ও সদ্ধর্মসভা।দিনটি প্রধান দুটি পর্বে বিভক্ত, যেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় বৌদ্ধ ভিক্ষু সংঘ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।

​১ম পর্ব: সকাল ৯টা (সদ্ধর্মসভা)

​সকাল ৭টায় অনিত্যদেহ শোভাযাত্রা সহকারে গ্রাম প্রদক্ষিণ শেষে সকাল ৯টায় প্রথম পর্বের সদ্ধর্মসভা শুরু হবে। এই পর্বের দায়িত্বে থাকবেন:

  • সভাপতি: সদ্ধর্মনিধি ধর্মদর্শী মহাস্থবির (মাননীয় উপ-সঙ্ঘরাজ, বাংলাদেশ সঙ্ঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা)।
  • প্রধান জ্ঞাতি: ভদন্ত শীল রক্ষিত মহাস্থবির (অধ্যক্ষ, জামিজুরী সপ্রমাণ বৌদ্ধ বিহার, চন্দনাইশ)।
  • উদ্বোধক: সদ্ধর্মকথিক অতূলানন্দ মহাস্থবির (অধ্যক্ষ, সুচিয়া সুখানন্দ বিহার, চন্দনাইশ)।
  • মুখ্য ধর্মালোচক: কর্মবীর দেবমিত্র মহাস্থবির (সমাজ কল্যাণ সচিব, বাংলাদেশ সঙ্ঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা)।
  • প্রধান সদ্ধর্মদেশক: কে. শ্রী. জ্যোতিসেন মহাস্থবির (পরিচালক, রামু রাঙ্কুট বনাশ্রম- রামু, কক্সবাজার)।
  • প্রধান অতিথি: বাবু অজিত রঞ্জন বড়ুয়া (চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি)।
  • বিশেষ অতিথি: লায়ন টিংকু বড়ুয়া (সাধারণ সম্পাদক, পটিয়া সম্মিলিত বৌদ্ধ পরিষদ)।

​২য় পর্ব: দুপুর ২টা (স্মৃতিচারণ ও মূল সদ্ধর্মসভা)

​দুপুরের মূল অধিবেশনে উপস্থিত থাকবেন:

  • সভাপতি: শাসনস্তম্ভ ধর্মপ্রিয় মহাস্থবির (মহামান্য চতুর্দশ সঙ্ঘরাজ, বাংলাদেশ সঙ্ঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা)।
  • আশীর্বাদক: সদ্ধর্মবারিধি প্রিয়দর্শী মহাস্থবির ও শাসনভাস্কর শাসনপ্রিয় মহাস্থবির (মাননীয় উপ-সঙ্ঘরাজদ্বয়)।
  • উদ্বোধক: সদ্ধর্মজ্যোতিকা ধ্বজ বসুমিত্র মহাস্থবির (অধ্যক্ষ, শাকপুরা সার্বজনীন তপোবন বিহার)।
  • প্রধান ধর্মদেশক: ড. সঙ্ঘপ্রিয় মহাস্থবির (মহাসচিব, বাংলাদেশ সঙ্ঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা)।
  • প্রধান অতিথি: ড. কর্নেল অলি আহমদ, বীর বিক্রম (অব.) (সভাপতি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি)।
  • প্রধান জ্ঞাতি: প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া (একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ)।
  • সংবর্ধিত অতিথি: ডা. শাহাদাত হোসেন (মাননীয় মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন)।
  • প্রধান আলোচক: প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া (প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়)।
  • অনুষ্ঠানটি ফতেনগর মহাবোধি চত্বরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজক কমিটি তথা ‘বিনয়শীল সোমানন্দ মহাস্থবিরের জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উদযাপন পরিষদ-২০২৫’ সকল পুণ্যার্থীর উপস্থিতি কামনা করেছেন।

  • গত ১৫ জুলাই মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২.৫৫ মিনিটে এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে বিনয়শীল সোমানন্দ মহাস্থবির শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন


রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫

 ‘অগ্রদূত’ বৌদ্ধ সংগঠনের ৯ম বর্ষপূর্তি উদযাপন সম্পন্ন

‘অগ্রদূত’ বৌদ্ধ সংগঠনের ৯ম বর্ষপূর্তি উদযাপন সম্পন্ন

 



নিজস্ব প্রতিবেদক, বোয়ালখালী:শান্তি, মৈত্রী ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন ‘অগ্রদূত’-এর ৯ম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান। গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের বোয়ালখালীস্থ জ্যৈষ্ঠপুরা অর্হৎ মাহাসি সতিপট্ঠান মহারণ্যে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এই বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়।

দিনব্যাপী কর্মসূচি:

উৎসবের শুরুতে সংগঠনের সকল সদস্য চট্টগ্রাম নগরীর নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহারে সমবেত হন এবং সেখান থেকে জ্যৈষ্ঠপুরার উদ্দেশ্যে রওনা হন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবেষ্টিত মহারণ্যে সকালে বুদ্ধ পূজা এবং পূজনীয় ভিক্ষুসংঘের পিণ্ডদানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বোয়ালখালীর আমুচিয়া গুচ্ছ গ্রামে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

ধর্মীয় সভা ও দেশনা:

অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে উদযাপন পরিষদের সমন্বয়কারী ফাগুন বড়ুয়া সংগঠনের ইতিপূর্বের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং অর্থ সচিব অভি বড়ুয়া পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন। অনুষ্ঠানে দিকনির্দেশনামূলক ধর্মোপদেশ প্রদান করেন অগ্রদূত বৌদ্ধ সংগঠনের ধর্মীয় সম্পাদক ভিক্ষু আনন্দপ্রিয়।

জ্যৈষ্ঠপুরা অর্হৎ মাহাসি সতিপট্ঠান মহারণ্যের অধ্যক্ষ উ. সুমনশ্রী থের সদ্ধর্ম দেশনা প্রদানকালে সংগঠনের শ্রীবৃদ্ধি কামনা করেন। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার শেষে অষ্টপরিষ্কার দান, বুদ্ধ প্রতিবিম্ব দানসহ বিভিন্ন দানসামগ্রী উৎসর্গ করা হয়। পরবর্তীতে পূজনীয় ভান্তেদের উপস্থিতিতে বর্ষপূর্তির কেক কাটা হয়।

উপসংহার:দিনব্যাপী এই আয়োজনের শেষ পর্বে বোয়ালখালী থানার শ্রীপুর-পশ্চিম জ্যৈষ্ঠপুরা গ্রামে অসহায়দের মাঝে পুনরায় শীতবস্ত্র বিতরণের মাধ্যমে কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটে।

উদযাপন পরিষদ:

উল্লেখ্য, বর্ষপূর্তি সফল করতে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি উদযাপন পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। এতে আহ্বায়ক হিসেবে হিমেল বড়ুয়া, সদস্য সচিব রবিন বড়ুয়া, অর্থ সচিব অভি বড়ুয়া, প্রধান সমন্বয়কারী অভিষেক বড়ুয়া, সমন্বয়কারী ফাগুন বড়ুয়া এবং সদস্য হিসেবে রূপনা বড়ুয়া ও ইমন বড়ুয়া গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।


মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫

উপসংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাস্থবির চতুর্দশতম মহামান্য সংঘরাজ মনোনীত

উপসংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাস্থবির চতুর্দশতম মহামান্য সংঘরাজ মনোনীত

বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার কারক সভার মিটিং এ বিনাজুরী শ্মশান বিহারে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ থেরবাদী সাংঘিক সংগঠন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মহামান্য সংঘরাজের মহাপ্রয়াণ করার ১৫ দিনের মধ্যে কারকসভা কর্তৃক পরবর্তী সংঘরাজ মনোনীত করা বাধ্যবাধকতা রয়েছে তাই কারকসভা গঠনতন্ত্রের ব্যত্যয় না গঠিয়ে গতকাল ২৪ নভেম্বর পশ্চিম বিনাজুরি শ্মশান বিহারে অনুষ্টিত কারকসভায় বৌদ্ধ রেনেসাঁর অন্যতম বৌদ্ধ গ্রাম পাহাড়তলী মহামুণি মহানন্দ সংঘরাজ বিহারের পূজনীয় অধ্যক্ষ, সংঘরাজ মহাসভার মাননীয় জ্যেষ্ঠ উপ-সংঘরাজ শাসনস্তম্ভ পরমারাধ্য ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাস্থবির মহোদয় চতুর্দশতম মহামান্য সংঘরাজ মনোনীত হয়েছেন। পরম পূজনীয় ত্রয়োদশ সংঘরাজ অগ্গামহাপণ্ডিত সদ্ধর্মজ্যোতিকাধ্বজ ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্থবির মহোদয়ের জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পূর্বরাত্রি সংঘরাজ মহাসভার সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশী বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় সংঘ প্রধান ও চতুর্দশ সংঘরাজ পদে অনুমোদন ও অভিষিক্ত হবেন বলে জানা গেছে।

বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫

মহামান্য সংঘরাজের পেটিকাবদ্ধ এবং ভদন্ত বুদ্ধরত্ন স্হবিরের মহাস্হবির বরণ সম্পন্ন

মহামান্য সংঘরাজের পেটিকাবদ্ধ এবং ভদন্ত বুদ্ধরত্ন স্হবিরের মহাস্হবির বরণ সম্পন্ন

 

বাংলাদেশী বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু, বৌদ্ধ বিশ্বের বর্ষীয়ান কিংবদন্তী সংঘ মনীষা, একুশে পদক প্রাপ্ত, অগ্গমহাপণ্ডিত, শাসন শোভন, মহামান্য সংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্থবির মহোদয়ের ১০১ তম জন্ম দিন, তাঁর পবিত্র মরদেহের পেটিকাবদ্ধ অনুষ্ঠান এবং বিনাজুরী শ্মশান বিহারের উপাধ্যক্ষ ভদন্ত বুদ্ধ রত্ন স্হবিরের মহাস্হবির বরণ অনুষ্ঠান গতকাল পশ্চিম বিনাজুরী শ্মশান বিহার সংলগ্ন বিনাজুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে সারাদিন ব্যাপী যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় সুসম্পন্ন হয়।সারাদিন ব্যাপি এই মহা ধর্মসম্মেলনে শত শত বহু প্রজ্ঞা পন্ডিত প্রবর ভিক্ষুসংঘ ও ধর্মপ্রাণ উপাসক উপাসিকা, অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সারাদিন ব্যাপি অনুষ্ঠান মালায় সকালবেলা প্রয়াত ড. জ্ঞানশ্রী মহাথের স্মরনে সংঘদান,ধর্মালোচনা বিনাজুরী শ্মশান বিহারের উপাধ্যক্ষ ভদন্ত বুদ্ধরত্ন স্থবির এর মহাস্থবির বরণ সম্পন্ন হয় ।সকালবেলার আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপ-সংঘরাজ ও প্রিয়শিষ্য প্রিয়দর্শী মহাস্থবির। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ধর্মসেন মহাস্থবির। মুখ্য আলোচক ছিলেন ড. ধর্মকীর্তি মহাস্থবির, ভদন্ত শাসনানন্দ মহাস্থবির।বিশেষ অতিথি ছিলেন রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিসান বিন মাজেদ, সহকারী কমিশনার ভূমি অংচিং মারমা।

দিনব্যাপী দুই পর্বের বিকেল বেলার অনুষ্ঠানে উপ-সংঘরাজ শাসনস্তম্ভ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাস্থবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার মহাসচিব ড. সংঘপ্রিয় মহাস্থবির । প্রধান সদ্ধর্মদেশক ছিলেন ঢাকা মেরুল বাড্ডা আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত ধর্মমিত্র মহাস্থবির।উপ-সংঘরাজ ভদন্ত ধর্মদর্শী মহাস্থবির, বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার সভাপতি ভদন্ত প্রিয়ানন্দ মহাস্থবির, জিনালংকার মহাস্থবির,শীলভদ্র মহাস্থবির, বিনয়পাল মহাস্থবির, জিনানন্দ মহাস্থবির, বোধিপাল মহাস্থবির,

প্রজ্ঞানন্দ মহাস্থবির,বিদর্শচার্য প্রজ্ঞাইন্দ্রিয় স্থবির, প্রিয়ানন্দ মহাস্থবির। প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন রাউজানের সাবেক এমপি ও বিএনপির নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।আরো উপস্থিত ছিলো

সাথী উদয় কুসুম বড়য়া,বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ভবেশ চাকমা, ড. সুকোমল বড়ুয়া,অধ্যাপক ববি বড়ুয়া, সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হুদা, ফিরোজ আহমদ, সাবের সুলতান কাজল, ছোট আজম, প্রমুখ।

পেটিকাবদ্ধ অনুষ্ঠান এবং ভদন্ত বুদ্ধ রত্ন স্হবির'র মহাস্হবির বরণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সদ্ধর্মজ্যোতি তিলোকাবংশ মহাস্থবির, প্রান্ত বড়ুয়া,ভদন্ত জিনবংশ মহাস্থবির ও ব্যাংকার সৈকত বড়ুযা।